ইয়েমেনে তীব্র সংঘাতের মধ্যে সরকারি বাহিনীর সম্মুখসারির যোদ্ধাদের সহায়তায় খাবার প্রস্তুত করে পৌঁছে দিচ্ছেন স্থানীয় নারীরা। দেশটির তাইজ প্রদেশে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর নারীদের পুরোনো এই উদ্যোগ আবারও শুরু হয়েছে। ভোরে উঠে বাটিভর্তি ময়দা মেখে তাঁরা তৈরি করছেন খেজুরভরা পেস্ট্রি ও বিস্কুট। খাবারের সঙ্গে যোদ্ধাদের কাছে একটি বার্তাও পাঠানো হচ্ছে—‘নারীরা তোমাদের পাশে আছে।’
জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর হুতি বাহিনী হোদেইদা ও তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। তারা হোদেইদার অবশিষ্ট জেলাগুলো, মোখা শহর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। বর্তমানে তাইজের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে তীব্র লড়াই চলছে।
নাসিম আল-ওদাইনি নামের এক নারী জানান, ২০১৫ সালে তাঁরা এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। তবে লড়াই কমে যাওয়ায় চার বছরের বেশি সময় এটি বন্ধ ছিল। এখন তাইজ প্রদেশে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পর তা আবার চালু করা হয়েছে। নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের অনুদানে বিপুল পরিমাণ খাবার তৈরি করছেন তিনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে অপরিচিত কোনো উৎস থেকে প্রস্তুত খাবার গ্রহণ না করে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে সরাসরি উপকরণ কিনে নেন তাঁরা।
খাবার প্রস্তুত করার পাশাপাশি নাসিম ও তাঁর দলের কয়েকজন সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেরাই তা সম্মুখসারিতে গিয়ে পৌঁছে দেন। নাসিম জানান, এই খাদ্য সহায়তা উদ্যোগের সক্রিয় সদস্য মোমেন, ওসামা ও রেহাম সম্মুখসারিতে সরবরাহ পৌঁছে দিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এরপরও তিনি নিজে খাবার পৌঁছে দেওয়া চালিয়ে গেছেন।
ইসরা আল-তাইয়েব নামের আরেক নারীও ২০১৫ সালে যোদ্ধাদের জন্য খাবার তৈরি শুরু করেছিলেন। তাঁর মা তুফাহা ২০১১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় নিহত হন। সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছেন তাইয়েব। তবে তিনি নিজে সম্মুখসারিতে যান না, বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সরবরাহ পাঠান।
সম্মুখসারির এক যোদ্ধা জানান, সহজে বহনযোগ্য ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার তাঁদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি তাঁদের বড় ধরনের মানসিক শক্তিও জোগায়। মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ হাইল আল-ফাকিহ মনে করেন, বাড়িতে তৈরি খাবারের আবেগগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে শহরের মানুষ তাঁদের পাশে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ এই চর্চা।
